বরিশালে আবারও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে দুই জোড়া কালনাগিনি সাপ। চলতি মাসে নগরী ও আশপাশের বাসাবাড়ি এবং অফিসের এসির ভিতর থেকে এ পর্যন্ত ১০টি কালনাগিনি উদ্ধার হয়েছে। এ অবস্থায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, গত শনিবার বিকালে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মজিবুল হক সেন্টুর বাড়ির এসির ভিতর থেকে চারটি কালনাগিনি উদ্ধার করা হয়। তবে একই সময় এসির আউটডোর ইউনিটে থাকা আরও একটি সাপ পালিয়ে যায়। বাড়ির মালিক সেন্টু জানান, শুক্রবার রাতে শোবার ঘরের এসির নিচে একটি সাপের লেজ দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরটি বন্ধ করে রাখেন। শনিবার বিকালে প্রায় আড়াই ঘণ্টার অভিযানে আড়াই থেকে তিন ফুট দৈর্ঘ্যরে চারটি সাপ উদ্ধার করা হয়। এর আগে চলতি মাসেই বরিশাল নগরীর কাশীপুরে রেঞ্জ ডিআইজির কক্ষ থেকে চারটি এবং সাগরদী এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিক থেকে একটি একই প্রজাতির সাপ উদ্ধার করা হয়। সাপ উদ্ধারকারীরা জানান, এগুলো সম্পূর্ণ নির্বিষ প্রজাতির সাপ। আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীদের খবর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা জানান, উদ্ধার হওয়া সাপগুলো কালনাগিনি নামে পরিচিত হলেও এগুলো বাংলাদেশের একটি সম্পূর্ণ নির্বিষ, বৃক্ষবাসী ও দিবাচর প্রজাতির সাপ। অনেকেই একে ‘উড়ন্ত সাপ’ বা ‘সুতানালি সাপ’ বলে থাকেন। তবে এটি ডানা মেলে উড়ে না। শরীর চ্যাপটা করে এক গাছ থেকে আরেক গাছে ভেসে যেতে পারে। তিনি বলেন, কালনাগিনি সাধারণত বনাঞ্চল, ঝোপঝাড়, ফলের বাগান, বাঁশঝাড় ও গাছপালাবেষ্টিত এলাকায় বসবাস করে। টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ, ছোট পাখি ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আসাদুল্লাহ হাসান মুসা আরও জানান, এ সাপের প্রজনন মৌসুম এপ্রিলে শুরু হয়, জুলাইয়ে শেষ হয়। বর্তমানে এ প্রজাতির প্রজনন মৌসুমের শেষ সময় চলছে। স্ত্রী সাপ সাধারণত ৫ থেকে ১২টি, কখনো ১৫টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। এ সময় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক সাপ বাড়ির এসির আউটডোর ইউনিট, দেয়ালের ফাঁক, ছাদের কোনা কিংবা ঠান্ডা ও নিরিবিলি স্থানে ঢুকে পড়ে। এটি তাদের স্বাভাবিক আচরণ। মানুষের ওপর আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে তারা এসব স্থানে আসে না। তিনি বলেন, বাড়িতে কোনো সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন এবং প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।