শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৩৮

'সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্যোগ রুখে দিতে মওলানা ভাসানী আহ্বান জানিয়েছিলেন'

নিজস্ব প্রতিবেদক

'সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্যোগ রুখে দিতে মওলানা ভাসানী আহ্বান জানিয়েছিলেন'
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত মওলানা ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তরা বলেছেন, ভাসানীর জন্ম ও মৃত্যুদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনে বর্তমান সরকারসহ সকল সরকার হীনমন্যতার পরিচয় দিয়ে আসছে। অথচ ভাসানী ছিলেন একাধারে কৃষক নেতা অন্যভাবে তাকে গণমানুষের নেতা হিসাবেও আখ্যায়িত করা যায়। জাতির দুর্ভাগ্য তাকে ভালোভাবে স্মরণ না করে অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছে। এক শ্রেণির আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে রাজনীতিবিদরা তাকে নিয়ে এমন তুচ্ছভাব করছে।  

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আজ মওলানা ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকীর এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য মাহমুদুল হাসান মানিক, হাজেরা সুলতানা, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন বলেন, পাকিস্তানের যাত্রা শুরুতেই মওলানা ভাসানী এ দেশবাসীর চোখে স্বাধীনতার যে স্বপ্ন অঞ্জন পরিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধুর সাহসী নেতৃত্বে সেটিই রূপ নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশে। ৭৫ এর পনেরই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান দেশকে সাম্প্রদায়িক ধর্মবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার যে উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, পিজি হাসপাতালের রোগশয্যা থেকে মওলানা তাকে রুখে দিতে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই কথা তার ‘ফারাক্কা লং মার্চ’ সম্পর্কে। সেই সত্তর দশকেই তিনি আন্তর্জাতিক নদীর পানি বণ্টনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছিলেন, যা আজকের দিনে কেবল বাংলাদেশ-ভারতের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে দাঁড়িয়েছে। কৃষক-খেতমজুর, শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির লড়াই মওলানা ভাসানীকে ‘মজলুম জননেতা’য় রূপান্তরিত করেছে।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মওলানা ভাসানীর জন্ম ও মৃত্যুদিন পালনে রাষ্ট্রীয়ভাবে সরকার হীনমন্যতার পরিচয় দিয়ে আসছে। 
সাইফুল হক বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। এদেশের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পুরোধা ছিলেন মওলানা ভাসানী। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্বেই ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৭১ এর আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের জমিন তৈরি হয়।

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার


আপনার মন্তব্য